একই দিনে ঈদ ও একই দিনে রোযাঃ একটি গানিতিক সমাধান – মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম

(আসুন! সারা বিশ্বে একই দিনে রোযা রাখি, একই দিনে ঈদ করি)
মুহাম্মদ নজরুল ইসলামঃঃ
কিছু কিছু বিষয় আছে, যার সমাধান একজন ডাক্তারই দেয়ার কথা। সেই বিষয়টা যদি আমরা কোন ইঞ্জিনিয়ারকে প্রশ্ন করি, আর তখন তিনি যদি সে প্রশ্নের উত্তর দেন, তাহলে আমরা সেই উত্তরকে গ্রহণ করবো কিনা বা আমরা ইঞ্জিনিয়ারকে সে প্রশ্ন আদৌ করবো কিনা, তা জিজ্ঞাসা থেকেই যায়।

আবার কিছু কিছু বিষয় আছে, যা নিরেট কুরআন হাদীস সংক্রান্ত। সেই বিষয়ে আমরা কোন ডাক্তার সাহেবকে জিজ্ঞেস করবো কিনা, এটাও একই ভাবে জিজ্ঞাসা থেকে যায়।
কিন্তু কিছু কিছু প্রশ্ন আছে, যার সম্পর্ক যেমন কুরআন হাদীসের সাথে সম্পর্কিত, একই ভাবে তার সম্পর্ক জ্যোত্যির্বিজ্ঞানের সাথে। সেই প্রশ্ন যখন কেবলমাত্র কোন আলেমকে করা হয়, তখন তিনি যদি উত্তরটি দিয়ে দেন, তাহলে তা গ্রহণ করার ব্যাপারে কথা থেকে যাবে। আবার একই প্রশ্ন যদি কোন জ্যোত্যির্বিজ্ঞানীকে করা হয় এবং তিনিও উত্তরটা দিয়ে দেন, তাহলে তাও গ্রহণ করার ব্যাপারে কথা থেকে যাবে।
কিন্তু প্রশ্নটির উত্তর যদি আলেম এবং জ্যোত্যির্বিজ্ঞানী দূ’জন বসে একটা কমিটি গঠন করে বিশদ আলোচনা পর্যালোচনা করে কমিটির সিদ্ধান্ত আঁকারে দেন, তখন তা আর গ্রহণ করার ব্যাপারে কোন কথা থাকতে পারেনা। আবার যদি সংশ্লিষ্ট আলেম কুরআন হাদীস অধ্যয়নের সাথে জ্যোত্যির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত সংশ্লিষ্ট বিষয় ভালভাবে পড়ালেখা করে উত্তর প্রদান করেন, তখনও তা গ্রহণ করার ব্যাপারে কোন কথা থাকতে পারেনা। একই ভাবে যদি কোন জ্যোত্যির্বিজ্ঞানীও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কুরআন হাদীস চর্চা করে উত্তর প্রদান করেন, তাহলেও তা গ্রহণ করার ব্যাপারে কোন কথা থাকতে পারেনা।
এ পর্যায়ে আমরা মূল আলোচনায় আসবো। বিষয়টি হচ্ছে একই দিনে রোযা রাখা অথবা একই দিনে ঈদ করা অথবা আরাফাতের দিবসে যখন হাজী সাহেবরা আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করেন, ঠিক সেই সময়ে বা সেই দিনে রোযা রাখা প্রসংগে। এই বিষয়ে এ পর্যন্ত বহু আলোচনা হয়ে গেছে। বিধায় আর কোন আলোচনার সুযোগ নাই বলে অনেকেই মনে করে থাকেন। কিন্তু সেই সব আলোচনাতে যে সব বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া হয়নি, সেই ধরণের একটা বিষয়  আমরা আলোচনা করতে চাই। আর তা হচ্ছে, বিষয়টি কেবল কুরআন হাদীসের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। বরং এই বিষয়টা জ্যোত্যির্বিজ্ঞানের সাথে বা গনিতের সাথে সম্পর্কিত একটা বিষয়। সম্মাণিত পাঠক! অত্যন্ত মনোযোগের সাথে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি প্রদানের অনুরোধ করবোঃ
১. সৌদি আরবের সাথে আমাদের সময়ে পার্থক্যঃ
স্বাভাবিক ভাবে আমাদের জানা যে, ইন্টারন্যাশনের সময় অনুযায়ী আমাদের সাথে সৌদী আরবের সময়ের পার্থক্য মাত্র ৩ ঘন্টা। আরো খোলাসা করে বললে বলতে হয় সৌদী আরবের ৩ঘন্টা আগে আমাদের বাংলাদেশে সূর্য উদিত হয় এবং ৩ ঘন্টা আগে সূর্য অস্ত যায়। কিন্তু আমি এই কথাটার সাথে দ্বিমত পোষন করতে চাই। আমার বক্তব্য হচ্ছে, সৌদী আরবের ২১ ঘন্টা পরে আমাদের দেশে সুর্য উঠে এবং ২১ ঘন্টার পর অস্ত যায়। এই বিষয়টি পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে পাঠকের সামনে পরিষ্কার হবে ইনশাআল্লাহ।
২. ইন্টারন্যাশনাল সময় সূচীঃ
ইন্টারন্যাশনাল সময়সূচী নির্ধারিত হয় লন্ডনের একটা ঘড়ি থেকে। অনুসন্ধানে জানা যায় যে, এই সময়সূচীটা নির্ধারিত হয় লন্ডনের “মান মন্দির” নামক একটি মন্দিরের ঘন্টার ধ্বনি থেকে। যার জন্য এই সময়সূচী কে বলা হয় “গিনিচমান” সময়।পৃথিবীর যে সব দেশ এই মন্দিরের পশ্চিম দিকে পড়েছে তাদের বেলায় (-) মাইনাস আর যে সব দেশ পূর্ব দিকে পড়েছে, তাদের বেলায় (+) প্লাস ব্যবহার করে সময় নির্ধারণ করা হয়। সেই অনুযায়ী সৌদী আরব হচ্ছে (+3) প্লাস থ্রি আর বাংলাদেশ হচ্ছে (+6) প্লাস সিক্স। আরো সহজ করে বলতে হলে মান মন্দিরের ৩ঘন্টা আগে সৌদি আরবে দিন আসে আর ৬ঘন্টা আগে বাংলাদেশ দিন আসে। মজার বিষয় হচ্ছে ‘মুসলমানদেরকে এই সময়সূচী মানতে হবে’ এমন কথা কুরআনে বা হাদীসে কোথাও কিন্তু নাই। ‘দুনিয়ার মধ্যবর্তী স্থান মান মন্দির’ এমন কোন কথাও কুরআন বা হাদীসে কোথাও আমরা পাইনা। তা ছাড়া মুসলমানদেকে তাদের ইবাদত অনুষ্ঠানের জন্য একটি মন্দির কর্তৃক নির্ধারিত সময়সূচীকে অনুসরণ করতে হবে এমন কথা ভাবতে কষ্ট লাগে। আর অত্যন্ত দূঃখের বিষয় হলোঃ মুসলমানরা এ অবধি কোন সময়সূচী নির্ধারণ করেননি বা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। দুনিয়ার মধ্যবর্তী স্থান-যেখানে কাবা শরীফ বা বাইতুল্লাহ (আল্লাহর ঘর) অবস্থিত-সেই স্থানটি বলে লোকমুখে আমার জানা আছে। কিন্তু এই বিষয়ে আমার কাছে দালিলিক কোন তথ্য নাই।
৩. দিন শুরু হয় কখনঃ
গ্রীনমান সময় সূচী অনুযায়ী দিন শুরু হওয়ার সময় হলো রাত ১২টা। রাতের ১১টা ৫৯ মিনিট ৫৯ সেকন্ড শেষ হলেই শুরু হয় দিন। পরদিন ১১টা ৫৯ মিনিট ৫৯ সেকন্ড অবধি সময়সূচীকে চিন্হিত করা হয় AM (Ante meridiem: Before noon) নামে আর এর পর থেকে পরবর্তী রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ৫৯ সেকন্ড অবধি সময়সূচীকে চিন্হিত করা PM (Post meridiem: After noon) নামে। কিন্তু এই বিষয়টা কুরআন বা হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক কি না তা বলতে হবে উলামায়ে কিরামদেরকে। কারণ আমরা জানি মুসলমানদের দিন শুরু হয় সূর্যাস্তের মাধ্যমে। তথা মাগরিব থেকে মুসলমানদের দিবসের শুরু আর মাগরিব দিয়েই দিবেসের শেষ। অপর দিকে দিন আর রাতের সীমারেখাও নির্ধারিত হয় মাগরিব দিয়ে শুরু করে সুবহে সাদিক অবধি রাত আর সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত অবধি দিন। বিধায় মান মন্দিরের নির্ধারিত AM বা PM পদ্ধতিটা মুসলমানদের জন্য নয়।
৪. বার ঘন্টার সময়সূচী বনাম ২৪ ঘন্টার সময়সূচীঃ
আমরা যে ঘড়িটি ব্যবহার করি, সেই ঘড়িটি এই যামানায় এসে এক ধরণের অচল হতে শুরু করেছে। বিধায় সময় সূচীতে ধীরে ধীরে AM এবং PM এর ব্যবহার কমছে। আমরা যারা উড়োজাহাজে করে সফর করি, তারা তাদের ফ্লাইটের সময়সূচীটা বিকালের দিকে হলে লক্ষ করি যে, আমাদের সময় সূচীটা প্রদর্শণ করা হয় ১৩ থেকে ২৩ অবধি সময় দিয়ে। বিমানবন্দর সমূহে ফ্লাইট উঠা নামার যে সময় সূচী প্রদর্শন করা হয়, তাতেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। আমরা যে কম্পিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করি, তাতে যখন আমরা টাইম সেটিং করি, তখন আমাদেরকে প্রশ্ন করা হয় যে, আপনি কোন ধরণের সময়সূচী চান? ১২ ঘন্টা ফরমেটের সময়সূচী না ২৪ ঘন্টা ফরমেটের সময়সূচী? এর দ্বারা প্রমাণ হচ্ছে যে, মান মন্দির নির্ধারিত প্লাস বা মাইনাস এর নিয়ম ধীরে ধীরে দুনিয়াতে অচল হতে শুরু করেছে। যেখানে দুনিয়ার কোন বিষয়ে এই সময়সূচী অচল হওয়ার পথে, সেখানে আমরা আমাদের ইবাদত অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেই সময়সূচীকে কেন অনুসরণ করতে যাবো।
৫. আজ কত তারিখঃ
আজ যখন কাতারে বসে এই লেখাটি লেখছি, তখন আমার কম্পিউটারের ঘড়িতে তারিখ দেখাচ্ছে ১৭ এপ্রিল ২০১৯। কিন্তু এই মুহুর্তে যারা কাতারে অবস্থান না করে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, তাদের কম্পিউটারে এখন তারিখ দেখাচ্ছে ১৮ এপ্রিল ২০১৯। অপর দিকে যারা এখন আমেরিকার দেশ হাওয়াই দ্বীপে অবস্থান করছেন, তাদের জন্য এখন সময় দেখাচ্ছে ১৭ এপ্রিল ২০১৯। একই এলাকার আরেকটা দ্বীপ যেখানে একই সময়ে সূর্য দেখা যায়, সেই KIRIMATI দ্বীপে এখন সময় দেখাচ্ছে ১৭ এপ্রিল ২০১৯। ইসলামিক ফাইন্টার নামক প্রখ্যাত ওয়েব সাইটের বিবরণ অনুযায়ী ১৭ নভেম্বর ২০১৯ তারিখে কাবা শরীফের ফজরের সময়ঃ ০৪:৩৭ একই দিনে কাতারে ফজরের আজানে সময়ঃ ০৩:৫১।
৬. মান মন্দিরের সময় বনাম মক্কা সময়ঃ
মান মন্দিরের ঘড়ির হিসাব অনুযায়ী কাতার থেকে মক্কাতে দিন শুরু হচ্ছে ৪৪ মিনিট পর। কিন্তু আমরা যদি মক্কাকে পৃথিবীর কেন্দ্র ধরে হিসাব করি এবং আমরা সূর্যের গতি পথের দিকে দিনের হিসাব করি তাহলে অবস্থা কি দাড়ায়। যার একটা বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হলোঃ
১৮ এপ্রিল তারিখ মক্কাতে যখন হবে সুবহে সাদিক, তখন কাতারে হবে ১৭ এপ্রিল। সৌদী আরবের ২৩ ঘন্টা ১৬ মিনিট পর কাতারে হবে ১৮ এপ্রিল।
১৮ এপ্রিল মক্কাতে যখন হবে সুবহে সাদিক, তখন বাংলাদেশে হবে ১৭ এপ্রিল। সৌদী আরবের ২১ ঘন্টা পর বাংলাদশে হবে ১৮ এপ্রিল।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মান মন্দিরের সময় অনুযায়ী যদি পৃথিবী নিয়ন্ত্রিত হতে পারে, তাহলে মক্কার ঘড়ি অনুযায়ী কেন সময় নিয়ন্ত্রিত হতে পারবেনা। মান মন্দিরের ঘড়ি অনুযায়ী যদি দিন ও রাতের বা তারিখের কমবেশী হতে পারে, তাহলে মক্কার সময়সূচী অনুযায়ী কেন হতে পারবেনা। মক্কাকে কেন্দ্র ধরে ২৪ ঘন্টা সময়সূচী ধরে দিনকে পশ্চিমমুখী করতে সমস্যা কোথায়? বাংলাদেশ বা কাতার সৌদী আরবের পূব দিকে অবস্থিত এই কথাটা মাথা থেকে বাদ দিয়ে যদি আমরা চিন্তা করি যে, পৃথিবী নামক গোল জিনিসটার পশ্চিমে বাংলাদেশ ও কাতার অবস্থিত। তাহলে সমস্যা কোথায়। কুরআনে বা হাদীসে কোথাও কি লিখা রয়েছে যে, আমরা হাওয়াই দ্বীপকে পৃথিরীর সর্ব পশ্চিমে অবস্থিত এবং KIRIMATI দ্বীপকে পৃথিবীর সর্ব পূবে অবস্থিত বলে মানতে হবে।
৭. ব্রিটিশ আধিপত্যবাদের প্রভাব সময় নির্ধারণেওঃ

ব্রিটিশরা এক সময় সারা দুনিয়াতে রাজত্ব করছে একথাটা আমাদের সকলের জানা আছে। একই ভাবে এই লজ্জাজনক অধ্যায়টিও জানা আছে যে, আমরা দুইশত বছর ঐ ব্রিটিশের গোলামী করেছিলাম। একাধারে দুইশত বছর গোলামী করতে করতে এখন গোলামীটা আমাদের রক্তে মাংসে মিশে আছে। তাই আমরা যে গোলামী করছি, তা এখন আর টের পাইনা। বৃটিশরা ভূমি ছেড়ে গেলেও ব্রেনের দিক দিয়ে এখনো দুনিয়া ব্যাপী রাজত্ব করছে। তারা কোন কিছুতে নাই, অথচ তারাই সব কিছুতে। ব্রিটিশদের একটি থিওরী রয়েছে। যার নাম(Eurocenterism)। এই ইজম দিয়ে তারা বিশ্বে রাজত্ব করতে চায়। আর তারই একটা অংশ হচ্ছে, তাদের প্রবর্তিত নিয়মে পৃথিবীতে সময় নির্ধারিত হবে এবং তারিখ নির্ধারিত হবে। কিন্তু আমরা কি সেই নিয়ম মানতে বাধ্য? অথবা এই নিয়মের অধীনে কি ইসলামী ইবাদত সমুহ পালিত হবে?
৮. আধিপত্যবাদী সময়সূচীর বড় গলদঃ
এই লিখার সাথে পাঠকদের সুবিধার্থে বিশ্ব মানচিত্রের সময় রেখার এলাকাতে অবস্থিত জনপদের একটি চিত্র প্রদান করা হবে। সেখানে লক্ষ করলে দেখা যাবে KIRIBATI নামক একটা দ্বীপের WASHINGTON LAKE এবং HAWAII নামক আরেকটা দ্বীপের ‍SOUTHPOINT HISTORICAL LIGHTHOUSE-কে চিহ্নিত করা হয়েছে। যে দূ’টি দ্বীপের আকাশ পথে দূরত্ব ১৬৬২.১৪ কিলোমিটার বা ১০৩২.৮১ মাইল। এই দুইটি দ্বীপকে সূর্যরশ্মী অনুযায়ী একই রেখায় প্রতিস্থাপন করলে দূরত্ব হয় মাত্র ২৪৫ মাইল।বিষয়টা বুঝানোর জন্য আমরা সিলেট ও চট্টগ্রাম নিয়ে আলোচনা করতে পারি। সিলেট ও চট্টগ্রামের মাঝে আকাশ পথে দূরত্ব ২৮০ কিলোমিটার বা ১৭৪ মাইল। কিন্তু এই দুই জায়গায় প্রায় একই সময়ে সূর্য উদিত হয় এবং অস্ত জায়গায়। কারণ জায়গা দূ’টির অবস্থান উত্তর দক্ষিণে-পূর্ব পশ্চিমে নয়। KIRIBATI দ্বীপ এবং HAWAII দ্বীপের অবস্থান এই ভাবে উত্তর দক্ষিণে। তাই সময়ের দূরত্ব চট্টগ্রাম ও সিলেটের মতোই হওয়ার কথা। কিন্তু শুনলে অবাক হতে হয়ে যে, KIRIBATI দ্বীপে যখন দিন শুরু হয়, তার প্রায় ২৪ ঘন্টার পর HAWAII দ্বীপে দিন শুরু হয়। ব্রিটিশ আধিপত্যবাদীরা ঐ জায়গায় গিয়ে সময় রেখাটাকে বাঁকা করে নিয়েছেন তাদের রাজনৈতিক সুবিধার্থে। পাঠক এই লিখার সাথে প্রদত্ত মানচিত্রের দিকে নজর দিলে বিষয়টি ভাল ভাবে উপলব্দি করতে পারবেন। আর তাদের এই বধান্যতার কারণে একই সূর্য দেখে এক এলাকার মানুষ বলে আজ ১৮ এপ্রিল আর আরেক এলাকার মানুষ বলে ১৭ এপ্রিল। এক এলাকার মানুষ ঈদ উৎসব পালন করে আর আরেক এলাকার মানুষ ঈদ উৎসব পালন করার জন্য বা রোযা রাখার জন্য ২৪ ঘন্টা অপেক্ষা করে।
উপরোক্ত ০৮টি পয়েন্ট বিবেচনায় নিয়ে যদি আমরা আলোচনাকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে চাই, তাহলে আমরা দেখবো, প্রতি বছর রামাদ্বানের শুরু, ঈদুল ফিতর, আরাফাত দিবস, ঈদুল আযহা এবং আশুরার দিবসে এ বিষয়টি বিতর্কের চরম পর্যায়ে নিয়ে যায়। এবং পরিস্থিতি এক সময় অত্যন্ত ঘৃণিত আচরণে রূপ নেয়।
একদল সৌদী আরবের সাথে সম্পর্ক রেখে রামাদ্বানের রোযা রাখা শুরু করেন, ঈদ করেন এবং আরাফাতের দিবসে যখন হাজী সাহেবরা আরাফার ময়দানে তখন রোযা রাখেন।
অপর দল এর ঠিক একদিন পর উপরোক্ত কাজ গুলো সম্পাদন করেন।
তৃতীয় দল চাঁদ দেখে সময় নির্ধারণ করে উপরোক্ত কাজ গুলো সম্পাদন করেন।
এই তিনটি দলের সবচেয়ে কম জ্ঞান রাখেন এমন বিরাট একটা সংখ্যা পরস্পর কাঁদা ছুড়াছুড়িতে মত্ত হন এবং একদল আরেকদলকে কাফের ফতোয়া পর্যন্ত দিয়ে বসেন।
এই তিনটি দলের ছোট্ট একটা গোষ্ঠীর জ্ঞানীজন অপর দলের বা অন্য দৃষ্টিভংগী সম্পন্ন ব্যক্তিদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজে অনেক বড় মাপের জ্ঞানী বলে নিজেকে জাহির করেন।
উপরোক্ত সকল দল এবং সকল পর্যায়ের দৃষ্টিভংগী সম্পন্ন জ্ঞানীজনের দরবারে আমার নিবেদন। আসুন আমরা অন্য দৃষ্টিকোন থেকে বিষয়টি বিবেচনায় নেই। আমার বর্ণিত উপরোক্ত ০৮টি পয়েন্টকে বিবেচনায় নিয়ে একটু ফতোয়ারা রিভিউ করি।
আমার সারকথা হচ্ছেঃ
আমরা চাঁদ দেখে রোযা রাখবো, চাঁদ দেখে রোযা ভাংগবো, চাঁদ দেখে ঈদ করবো।
সৌদী আরব তথা বাইতুল্লাহকে আমরা সময় ও তারিখের কেন্দ্র হিসাবে গ্রহণ করবো এবং সেই কেন্দ্র থেকে সূর্যের গতি অনুযায়ী আমরা তারিখ ও সময়কে গননা করবো বাইতুল্লাহর পশ্চিম দিকে যেতে যেতে।
আমাদের ঘড়িতে যখন ১২টা বেজে যাবে, তখন আমরা থেমে যাবোনা। আমার ১৩, ১৪ বলে সামনের দিকে অগ্রসর হবো। সূর্যের পিছনে যেতে যেতে আমরা বাংলাদেশ পর্যন্ত পৌছবো একই দিনে। তখন আমাদের ঘড়ির কাটা ২১ ঘন্টা চলার পর বাংলাদেশে সেই দিন হবে, যে দিন ২১ ঘন্টা আগে বাইতুল্লাহ থেকে শুরু হয়েছিল।
আজ ১৭ এপ্রিল ২০১৯। সৌদী আরবের সময় অনুযায়ী এখন ১৭ এপ্রিল ২০১৯ রাত ১১.৫৫ মিনিট। আমার প্রদত্ত নকশা অনুযায়ী আসলে ২৩.৫৫ মিনিট। আর এই সময়ে বাংলাদেশে ১৮ এপ্রিল ২০১৯ হয়ে গেছে। কিন্তু আমার প্রদত্ত নকশা অনুযায়ী বাংলাদেশ হবে ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ২০.৫৫।
অতএব, আগামীকাল যদি হয় আশুরার দিন, তাহলে তা শুরু হোক সৌদী আরবে। আর একই দিনে আমি রোযা রাখবো সৌদী আরবের পরে ২১ ঘন্টা পরে।
সম্মাণিত জ্ঞানীজন, যাদের সময় আছে আমার লেখাটা মনোযোগ দিয়ে পড়ার, তারা মন্তব্য করবেন আশা করি।

Post a Comment

0 Comments