যে বিষয় আমাদের চিন্তায় আনা উচিত
আমি বড় একটা জ্ঞানী মানুষ না। আর জ্ঞানী জ্ঞানী কথা আমার মুখ থেকে কস্মীন কালেও বের হয়ে আসে না।
জ্ঞান এক জিনিস আর পড়ালেখা আরেক জিনিস। আমার বাবা আমার চেয়ে অনেক অনেক কম পড়ালেখা করেছেন। কিন্তু তিনি আমি এবং আমাদের চেয়ে অনেক অনেক বেশী জ্ঞানী ছিলেন। আমরা ৫ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারে নেতৃত্ব দিতে হিমশিম খাই, অথচ আব্বা ১০ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের সাথে ১০ হাজার মানুষের গ্রাম নামক পরিবারেও নেতৃত্ব দিয়েছেন জ্ঞানী ছিলেন বলে।
সেই আমির মুখ থেকে মাঝে মাঝে জ্ঞানীর মতো কথা বের হয়ে আসে। যেমন এসেছিল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের-এর ক্ষেত্রে। এই বেচারা কিভাবে যে ফুল স্কয়ার সোহেল আহমদ চৌধুরীর সেক্রেটারী হয়ে গেলেন, তা আমার বুঝে আসেনি। দেখতে দেখতে সোহেল আহমদ চৌধুরীর শুণ্যস্থানে সিলেট মহানগরীর সভাপতি। কাহিনীটা ১৯৯৩ সালের।
এহসানুল মাহবুব যখন সিলেট শহরের সভাপতি, তখন সেক্রেটারী সিরাজুল ইসলাম শাহীন। সেটটা সাংঘাতিক ধরণের। ছাত্রজীবন শেষ হলে আমরা এই রসায়নটা দেখি গন সংগঠনেও। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেট মহানগরীতে যেখানে আমীর আর সেখানে সিরাজুল ইসলাম শাহীন সেক্রেটারী।
কথা বলছিলাম ১৯৯৩ সাল নিয়ে। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সিলেট শহরের সভাপতি থাকা অবস্থায় গ্রেফতার হোন এবং দীর্ঘ সময় কারাগারে থাকেন। সংঘত কারণে সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব পড়ে সিরাজুল ইসলাম শাহীনের উপর। এভাবে যখন মাস ছয়েক চলে যায় তখন আমি মন্তব্য করেছিলামঃ জুবায়ের ভাই কারাগার থেকে মুক্তি পেলেই কেন্দ্রে চলে যাবেন। কিন্তু কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেছিলামঃ সংগঠন দেখতেছে, জুবায়ের ছাড়াও সিলেট শহর চলে। অতএব, জুবায়েরকে নিয়ে যাওয়া হবে। দেখা গেল, এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মুক্তি পাওয়ার ২/৩ মাসের মধ্যে তার ট্রান্সফার অর্ডার এসে গেল। এই কথাটা অনেক জ্ঞান নিয়ে বলা কথা নয়, কিন্তু কিভাবে যে সত্য হয়ে গেল-তা বলা মুশকিল।
আমাদের
সমাজে আমরা অনেক মাওলানা সাহেবদের দেখা পাই। মাওলানা সাহেব যিনি তিনি কি আলেম? কিতাব,
সার্টিফিকেট আর সুললিত কন্ঠের বক্তৃতা দিয়ে বিখ্যাত মাওলানা হওয়া যায়, কিন্তু আলেম
হওয়া যায় না। আলেম হতে হলে ইলম বা জ্ঞান লাগে। কুরআনে আদম আ.কে জ্ঞান দেয়া হয়েছে বলা হয়েছে। জ্ঞানী হওয়ার
জন্য পড়া একটি অন্যতম মাধ্যম, কিন্তু একমাত্র মাধ্যম নয়।
পড়ার মাধ্যমে যারা জ্ঞান অর্জন করেন, তাদের মাঝে যদি কুরআনের জ্ঞান না থাকে, তাহলে তার জ্ঞানার্জন হয় খুবই সীমিত। তাই
কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা তার নামে পড়তে নির্দেশ করে বলেছেনঃ পড়! তোমার মালিকের
নামে।
আমাদের
মাওলানা সাহেবরা, যখন কথা বলেন-তখন উনার যেটা পছন্দ হয় কেবল সেটা বলেন অথবা উনি যে দল বা মাযহাব কিংবা
মাসলাকের, কেবল সেটা বলেন। কেন? হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে একই বিষয়ে সকল হাদীস বললে অসুবিধা কোথায়? কোন মাসআলা
বর্ণনার ক্ষেত্রে চার মাযহাবের সকল ইমাম কে কি বলেছেন তা বলুন, সাথে আপনি যে
মত পছন্দ করছেন, তা বলুন। কেন পছন্দ করছেন, তার পক্ষে যুক্তি দিন, দলীল দিন।
মাওলান
সাহেব, আপনি
কেন এমন করে বলেন না যে, কুরআন হাদীস চর্চা করে আমি এই মতটাকেই অধিক শ্রেয় বলে পেয়েছে বা মনে করি। কিন্তু
উলামায়ে কিরাম এই এই মতও বর্ণনা করেছেন।
আমাদের
দেশে এবং আশেপাশে কিংবা সারা বিশ্বে দল, মত আর মাযহাব কিংবা মাসলাকের অভাব নাই।
কিন্তু সূচনার কথায় যদি আমরা চলে যাই, তাহলে দেখতে পাই হযরত ইমাম আবু হানিফা রাহি.
কুরআন হাদীস চর্চা করে মানুষের জন্য ইবাদতের একটি প্যাকেজ উপহার দিয়েছেন। তার
ইনতিকালের পরে অথবা তার সময়ে যারা তার মতামতের সাথে একমত হোননি, তারা ইমাম আবু
হানিফার সম্মান হানি হয় এমন একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি। পরবর্তী সময়ের ইমাম গন তথা
ইমাম শাফেয়ী রাহি., ইমাম মালিক রাহি. কিংবা ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহি. তারা
সকলেই ছিলেন ইমাম আবু হানিফার প্যাকেজের আপটেড ভার্সন।
আমার
কম্পিউটারে হাতে খড়ি হলো Window 98 দিয়ে। বর্তমান যামানায় তা কোথাও খোঁজে পাবেন
না। এখন চলছে Window 10 কিন্তু আপনি অনেক জায়গায় যাতায়াতের লোক হলে দেখবেন, অনেক
অফিসে এখনো xp ব্যবহার করা হয়। Microsoft Office এর ভার্সন সমূহের মধ্যে এখনো আমি
2003 ভার্সন ব্যবহার করি। যা ২০ বছর আগের। কিন্তু অফিসে যখন থাকি, তখন ল্যাটেস্ট
ভার্সনই ব্যবহার করি। কেন আমি 2003 ব্যবহার করি। কারণ আমি স্বাচ্ছন্দবোধ করি। তাই
বলে আপডেট ভার্সনকে আমি অপ্রয়োজনীয় যেমন বলতে পারিনা, 2003 ব্যবহারকারী হিসাবে
আমাকেও কেউ ব্যাকডেটেড বলার প্রয়োজন নেই।
মাওলানা সাহেবরা মেক্সিমাম ক্ষেত্রে ইসলামের আপডেট থিসিস এর সাথে অপরিচিত। প্রথমতঃ তারা বিশ্বায়নের যুগে আপডেট ভার্সনের সাথে যুক্ত হওয়া দরকার। বিশ্ব উলামায়ে কিরাম ও ইসলামিক স্কলারদের সাথে যুক্ত থাকা দরকার। দ্বিতীয়তঃ অন্যের মতকে শ্রদ্ধা করা দরকার। তৃতীয়তঃ সকল উলামায়ে কিরামদের একথার উপর একমত হওয়া দরকার যে, এখন কেউ নবী দ্বারা পরিচালিত নন। বিধায়, আমরা যতই থিসিস করিনা কেন, আমরা কিতাবের পাহাড় যতই উজাড় করে ফেলিনা কেন, সবশেষে আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক নাও হতে পারে। আর সর্বশেষ হলোঃ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা কোন মত আর পথটাকে গ্রহণ করবেন, কোনটাকে গ্রহণ করবেন না-তা আমাদের জানা নেই। বিধায়, লক্ষ্য লক্ষ্য কোটি কোটি অনুসারীদের সমাবেশের চেয়ে সামান্য কয়েকজন মানুষের অনুসারীকে যদি আল্লাহ কবুল করে নেন, তাহলে আমার কি উপায় হবে-সেই বিষয় আমাদের চিন্তায় আনা উচিত।

0 Comments