শহীদ মিনারের বেদীতে জুতা নিয়ে যাওয়া অন্যায় নয়


শহীদ মিনারের মূল বেদীতে জুতা নিয়ে উঠতে পারবেন কিনা? অভিনেত্রী সাবেরী আলম প্রদত্ত একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়েছে সোসাল মিডিয়ায়। এই অভিনেত্রী মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে দুই ধরণের বক্তব্য দিয়েছেন।
শহীদ মিনারের মূল বেদীতে জুতা নিয়ে উঠা নিয়ে তার প্রথম বক্তব্যঃ শ্রদ্ধার জায়গাটি কোথায় রইল আমাদের। এগুলো তো পারিবারিক শিক্ষা। এই শিক্ষা গুলোতে আসলে বড় হয়ে শিখার কথা না।
অথচ কিছুক্ষণ আগে তিনি নিজেই শহীদ মিনারের বেদী জুতা পায়ে মাড়িয়ে ছিলেন। বিষয়টি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তার ভিন্ন উত্তরঃ এই বেদীতে সেন্ডেল পরে উঠলে কিছু হবেনা। ভাষাটাকে যদি শ্রদ্ধা করি, তাহলে.......। এটাকে একটা ইস্যু করার কোন কারণ দেখিনা।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে আসলেই কি শহীদ মিনার এতোই পবিত্র যে এখানে জুতা পায়ে উঠা যাবেনা। আমি মনে করি এটা পবিত্র কোন স্থান নয়। এটা একটি প্রতিকী স্থান। এখানে কোন ভাষা শহীদের করব নাই। এখানের সাথে ভাষা শহীদদের কোন স্মৃতি নাই।
আমার প্রশ্নঃ
- শহীদ মিনার কি মসজিদের মতো?
- শহীদ মিনার কি মসজিদের চেয়েও পবিত্র?
- শহীদ মিনার কি মসজিদুল হারামের চেয়ে পবিত্র?
- শহীদ মিনার কি কাবা ঘর থেকেও পবিত্র?
আল্লাহর রাসুল সা. মসজিদের ভিতর জোতা নিয়ে প্রবেশ করেছেন। জুতা অবশ্য পবিত্র ছিল-কোন নাপাক বস্তু জুতাতে ছিলনা। একদা নাপাক বস্তু জুতাতে থাকার কারণে নামাযের মাঝে জুতা খুলে ফেলেছেন।
মসজিদুল হারামে আমি দেখেছি অনেককেই, যারা জুতা পায়ে তাওয়াফ করছেন। আল্লাহর ঘরের একদম নিকটে গিয়ে তাওয়াফ করছেন।
মসজিদুল হারামের আঙিনায় যে সব পুলিশ ডিউটি করেন, তারা সব সময় জুতা পায়েই ডিউটি করেন।
আমার পূনরায় জিজ্ঞাসাঃ শহীদ মিনার কি মসজিদুল হরামের চেয়েও পবিত্র।
শহীদ মিনারে যদি কপোত-কপোতি মিলে পুটুশ পুটুশ করতে পারে, সন্ধ্যা নামলেই যদি শহীদ মিনার আঙিনায় খদ্দেরের খোঁজে পতিতারা পসরা মেলতে পারে, সারা বছর সংস্কৃতির নামে যদি শহীদ মিনারে বেলেল্লাপনা চলতে পারে। একুশে ফেব্রুয়ারীর বিকালেই যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গরু ছাগলরা যদি শহীদ মিনারে উঠতে পারে এবং এসব কারণে যদি শহীদ মিনারের পবিত্রতা নষ্ট না হয়, তাহলে কেবল জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠলে শহীদ মিনার অপবিত্র হওয়ার কথা না।
বাস্তবে শহীদ মিনার ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক বা সাংবিধানিক কোন দিক দিয়েই পবিত্র নয়। অতএব যা পবিত্র নয়, তাকে পবিত্র বানানোর চেষ্টা না করাই উচিত।

No comments

Theme images by luoman. Powered by Blogger.