প্রশ্নোত্তর - ইসলামী আন্দোলন সাফল্য ও বিভ্রান্তি
1. ইসলামী আন্দোলন সাফল্য ও
বিভ্রান্তি বইটি কখন প্রকাশিত হয়?
উত্তরঃ ১৯৮৩ সালে। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ ভূমিকা)
2. মানুষ যেকোনো কাজই করে
কিসের আশা নিয়ে?
উত্তরঃ সাফল্যের। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৫)
3. কাজের পেছনে মানুষের যে
উদ্দেশ্য থাকে তা হাসিল হওয়ার নামই কি?
উত্তরঃ সাফল্য। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৫)
4. আন্দোলনের উদ্দেশ্য তালাশ
করলে উদ্দেশ্য পাওয়া যাবে।
উত্তরঃ দু ধরনের। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৫)
5. যারা আন্দোলনে যোগদান করে
তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই সামনে রাখে। তা কি?
উত্তরঃ আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি লাভের মাধ্যমে আখিরাতে নাজাত হাসিল করা। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৬)
6. আখিরাতে কামিয়াব হওয়ার জন্য
দুনিয়ায় যেভাবে জীবন যাপন করা উচিত সেভাবে চলাই ঈমানের দাবি। কুরআনে আমাদের দোআ শেখানো হয়েছে। তা কি?
উত্তরঃ ‘হে আমাদের প্রভু! আমাদেরকে দুনিয়ায় মঙ্গল দান কর, আখিরাতের কল্যাণ ও দাও এবং আমাদেরকে দোযখের আযাব থেকে বাঁচাও। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৬)
7. আখিরাতের কল্যাণ (হাসানা)
মানে কি?
উত্তরঃ দোজখ থেকে মুক্তি পেয়ে বেহেশতে স্থায়ীভাবে থাকার সুযোগ। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৬)
8. তাহলে দুনিয়ার কল্যাণ
(হাসানা) কি?
উত্তরঃ আল্লাহর পথে চলা। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৬)
9. কুরআনে দুনিয়ার আযাব বলা
হয়েছে কোন কাজকে?
উত্তরঃ আখিরাতের পরওয়া না করে যেভাবে খুশি দুনিয়ার আরাম-আয়েশ ভোগ করা। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৬)
10.
রাসূল (স)-এর আসল দায়িত্ব কি ছিল?
উত্তরঃ আল্লাহর দীনকে দুনিয়ায় বাস্তবে চালু করা। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৬)
11.কোন কাজ ছাড়া ঈমানের দাবি পূরণ হয় না?
উত্তরঃ ইকামাতে দীনের প্রচেষ্টা ছাড়া। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৬)
12.
শয়তান মানুষকে ভালো কাজ করা থেকে বিরত রাখার জন্য
হাজারো রকমে চেষ্টা চালায়। যখন সে কোনো মানুষকে
ফেরাতে ব্যর্থ হয় তখন কি করে?
উত্তরঃ কাজের সুফল থেকে তাকে বঞ্চিত করার জন্য তার নিয়তকে সে কলুষিত করার চেষ্টা করে। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৭)
13.
তোমার চেয়ে যোগ্য আর কেউ নেই। ইসলামী আন্দোলনের স্বার্থেই তোমার ঐ পদটি পাওয়া
উচিত। তুমি এ দায়িত্ব না পেলে ইসলামী
আন্দোলনের বিরাট ক্ষতি হবে। এই ধরণের আগ্রহ মনের
মধ্যে কে সৃষ্টি করে?
উত্তরঃ শয়তান। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৭)
14.
ব্যক্তিগতভাবে কোন বিষয়টি মূল উদ্দেশ্য হলে সংগঠন
কোনো কারণে কাউকে ভুল বুঝে তার প্রতি অবিচার করলেও সে কোনো অবস্থায়ই ইসলামী
আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারত না।
উত্তরঃ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভই যদি তার মূল উদ্দেশ্য হতো। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৮)
15.
ব্যক্তিচেতনা ও আত্মসম্মানবোধ কোনো অবস্থায়ই খাঁটি
মুখলিস লোককে সংগঠনের বিদ্রোহী বানাতে পারে না। এক্ষেত্রে একজন সাহাবীর আদর্শ উদাহরণ রয়েছে। সাহাবী কে এবং তিনি কি করেছেন?
উত্তরঃ হযরত খালেদ বিন ওয়ালিদ রা. তাকে সেনাপতির পদ থেকে অপসারণের পর তিনি দীনের স্বার্থে যেভাবে তা মেনে নিয়েছেন। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৮)
16.
কাদের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা না আসা পর্যন্ত
ইসলাম বিজয়ী হতে পারে না?
উত্তরঃ ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য যারা প্রচেষ্টা চালায়, তাদের হাতে। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৮)
17.
ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য প্রধানত দুটো শর্ত রয়েছে। তা কি কি?
উত্তরঃ প্রথমত, এমন একদল মুখলিস লোক জোগাড় হওয়া দরকার, যারা আল্লাহর দীনকে বিজয়ী করার জন্য জান-মাল দিয়ে সঙ্ঘবদ্ধভাবে চেষ্টা চালাতে থাকবে। দ্বিতীয়ত, যে দেশে ইসলামকে বিজয়ী করার চেষ্টা চলছে, সে দেশের জনগণের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সমৰ্থন থাকা। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৯)
18.
রাসূল (স)-এর সময় মাক্কী যুগে প্রথম শর্তটি পূরণ
হলেও দ্বিতীয় শর্তটি মক্কায় পাওয়া যায়নি বলেই সেখানে দীন বিজয়ী হতে পারেনি। দ্বিতীয় শর্তটি কি?
উত্তরঃ যে দেশে ইসলামকে বিজয়ী করার চেষ্টা চলছে, সে দেশের জনগণের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সমৰ্থন থাকা। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৯)
19.
কোন নবী নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কখনো কোন
সহকারী পাননি?
উত্তরঃ লূত আ.। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-৯)
20.
কুরআন মাজীদে বর্ণিত নবীগণের ইতিহাস থেকে দেখা যায়
যে, দুনিয়ায়
তাদের সাফল্য ছিল চার রকমের। যে কোন এক প্রকারের
উল্লেখ করুন।
উত্তরঃ
১. কতক নবী হিজরত ছাড়াই ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার
সুযোগ পেয়েছেন।
২. কতক নবী ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করেছেন বটে; কিন্তু যেখানে তারা আন্দোলন শুরু
করেছেন, সেখান থেকে তাদেরকে বাধ্য হয়ে হিজরত করতে হয়েছে।
৩. বহু নবীর জীবনে দেখা যায় যে, দীর্ঘকাল মানুষকে দীনের দাওয়াত
দেওয়ার পরও যখন জনগণ কিছুতেই আল্লাহর আনুগত্য করতে রাজি হলো না তখন আল্লাহ তাদের
কাওমের উপর গযব নাযিল করলেন; কিন্তু গযব আসার আগে তিনি নবী ও
তাঁর সাথীদেরকে গযব থেকে বাঁচানোর ব্যবস্থা করেছেন।
৪. কুরআনে বিশেষ করে বনী ইসরাঈলের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়েছে যে, এরা নবীগণকে পর্যন্ত কতল করেছে। অর্থাৎ, ঐসব নবীকে শহীদ হতে হয়েছে। শহীদ হয়েও তাঁরা দায়িত্ব পালনের দিক দিয়ে সাফল্য লাভ করেছেন। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১০)
21.
কতক নবী হিজরত ছাড়াই ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করার
সুযোগ পেয়েছেন। এমন দুইজন নবীর নাম কি কি?
উত্তরঃ হযরত ইউসুফ (আ) ও হযরত দাউদ (আ)। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১০)
22.
কতক নবী ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম করেছেন বটে; কিন্তু যেখানে তারা আন্দোলন শুরু
করেছেন, সেখান থেকে তাদেরকে বাধ্য হয়ে হিজরত করতে হয়েছে। এমন দুইজন নবীর নাম কি কি?
উত্তরঃ হযরত মূসা (আ) ও হযরত মুহাম্মদ (স)। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১০)
23.
বহু নবীর জীবনে দেখা যায় যে, দীর্ঘকাল মানুষকে দীনের দাওয়াত দেওয়ার
পরও যখন জনগণ কিছুতেই আল্লাহর আনুগত্য করতে রাজি হলো না তখন আল্লাহ তাদের কাওমের
উপর গযব নাযিল করলেন; এমন দুইজন নবীর নাম কি কি?
উত্তরঃ হযরত নূহ (আ), হযরত লূত (আ), হযরত হূদ (আ), হযরত শোআইব (আ), হযরত সালেহ (আ)। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১১)
24.
ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ নেতা কারা?
উত্তরঃ নবীগণ। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১১)
25.
আমাদের আসল কাজ হলো ৩টি। কি কি?
উত্তরঃ
১. নিজেদেরকে সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর হাতে তুলে দেওয়া,
২. তার ইচ্ছার কাছে পূর্ণ আত্মসমর্পণ করা,
৩. ইকামাতে দীনের দায়িত্ববোধ নিয়ে সর্বশক্তি নিয়োজিত করে রাসূল (স)-এর পরিচালিত ইসলামী আন্দোলনের পথ ধরে চলতে থাকা। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১২)
26.
আল্লাহর দীন কবুল করলে কিসে শামিল হওয়া ফরয?
উত্তরঃ রাসূলের জামাআতে। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৩)
27.
‘আল জামাআত' মানে
কি?
উত্তরঃ একমাত্র জামাআত। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৩)
28.
আল্লাহর দাসত্ব ও রাসূল (স)-এর আনুগত্যের ভিত্তিতে
মুসলমানগণ যদি জীবন যাপন করে এবং দীনের খিদমত বা ইকামাতের জন্য যদি তারা
জামাআতবদ্ধ হয় তাহলে এ জাতীয় সব জামাআতই 'আল জামাআত'-এর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে। এ সম্পর্কে যে পরিভাষা উম্মতে মুহাম্মাদীর মধ্যে
চালু হয়েছে তা কি?
উত্তরঃ 'আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত'। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৪)
29.
জামাআতবদ্ধ হওয়ার অর্থ কি? এর জন্য শর্ত দুটো কি কি?
উত্তরঃ জামাআতবদ্ধ হওয়ার অর্থঃ দীনের উদ্দেশ্যে সংঘবদ্ধ হওয়া; এর জন্য শর্ত হলোঃ ১. ইমারাত বা নেতৃত্ব ও ২. ইতাআত কা আনুগত্য।(সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৪)
30.
হাজার হাজার নামাযী একই বড় মসজিদে আলাদা আলাদা নামায
আদায় করলে জামাআতে নামায হয় না। তাহলে জামায়াত হওয়ার
শর্ত কি?
উত্তরঃ ইমামের নেতৃত্ব ও মুক্তাদিদের আনুগত্য। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৪)
31.
রাসূল সা. বলেছেনঃ আমি তোমাদেরকে পাঁচটি বিষয়ে হুকুম দিচ্ছি, আল্লাহ আমাকে এসবের হুকুম দিয়েছেন। এই পাঁচটি বিষয় কি কি?
উত্তরঃ ১. আল জামাআত, ২. শোনা, ৩. আনুগত্য করা, ৪. হিজরত ও ৫. আল্লাহর পথে জিহাদ করা। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৪)
32.
যে ইসলামী জামাআত থেকে আধ হাত পরিমাণও বের হয়ে গেল; সে কি করলো?
উত্তরঃ সে তার গর্দান থেকে ইসলামের বন্ধন খুলে ফেলল। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৪)
33.
রাজনীতিসহ কোনো ময়দানেই জামায়াতে ইসলামী মনোভাব
পোষণ করে না?
উত্তরঃ ‘দোকানদারী মনোভাব'। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৭)
34.
আল্লাহর দীনকে কায়েম করার উদ্দেশ্যে একমাত্র আল্লাহর
সন্তুষ্টির আশায় চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াকেই কি বলা হয়?
উত্তরঃ ইসলামী আন্দোলন। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৭)
35.
আল্লাহ যা অপছন্দ করেন তা সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে উৎখাত
করে, যা তিনি
পছন্দ করেন তা চালু করার চেষ্টাকেই কি বলা হয়?
উত্তরঃ ইকামাতে দীন বা দীন কায়েমের আন্দোলন। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৭)
36.
প্রত্যেক নবী-রাসূলেরই বিরোধ হয়েছে চার ধরণের
স্বার্থের সাথে। তা কি কি?
উত্তরঃ ১. রাজনৈতিক, ২. অর্থনৈতিক, ৩. সামাজিক, ৪. ধর্মীয় (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৮)
37.
ইকামাতে দীনের উদ্দেশ্যে কোনো সংগঠনে যোগ দেওয়ার পর
একটি মাত্র কারণেই এ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া জায়েয। তা কি?
উত্তরঃ যে দীনী উদ্দেশ্যে এ সংগঠনে যোগদান করা হয়েছিল, সে উদ্দেশ্য পূরণের জন্য যদি এর চেয়ে উন্নত কোনো সংগঠন পাওয়া যায়। অথবা নিজেকে উন্নত মানের সংগঠন কায়েম করার যোগ্য মনে করে কেউ সংগঠন ত্যাগ করতে পারে। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৯)
38.
আজ পর্যন্ত দু-একজন ব্যতিক্রম ছাড়া এসব সংগঠন থেকে
বের হয়ে গিয়ে অন্য কোনো সংগঠনে কেউ যোগদান করেননি। কোনো কোনো সময় অবশ্য কতক লোক বের হয়ে গিয়ে এর চেয়ে উন্নত সংগঠন কায়েমের
স্বপ্ন দেখেছেন; কিন্তু
কি করতে পারেননি?
উত্তরঃ আজ পর্যন্ত কেউ এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপদান করতে পারেননি। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-১৯)
39.
কোনো বিষয়ে কারো মতের পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়নি বলে যদি
কেউ সংগঠন ত্যাগ করে, তাহলে তা কি?
উত্তরঃ তা সুস্পষ্ট বিদ্রোহ ছাড়া আর কিছুই নয়। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২০)
40.
ইসলামে জামাআত থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যাপারটা
অত্যন্ত জটিল ও কঠিন। তাই ইমাম যদি ফাসেকও হয়
তবুও তার পেছনে নামায আদায় করতে হয়। জামাআত ত্যাগ করে একা নামায আদায় করার অনুমতি শরীআত দেয়নি। ফাসেক ইমামকে বদলানোর নিয়মতান্ত্রিক চেষ্টার অনুমতি
অবশ্যই আছে; কিন্তু
কি নাই?
উত্তরঃ জামাআত ত্যাগের অনুমতি নেই। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২১)
41.
সংগঠনের সিদ্ধান্তের সাথে একমত না হওয়ার অজুহাতে বা কোনো
ইস্যুতে নিজের মতামত সংগঠনকে গ্রহণ করাতে অক্ষম হয়ে বা অন্য কোনো প্রকার
অসন্তোষের কারণে সংগঠন ত্যাগ করা শরীআতের দৃষ্টিতে কি?
উত্তরঃ একেবারেই অন্যায়। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২১)
42.
সংগঠনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ
সৃষ্টির চেষ্টা করা কি?
উত্তরঃ রীতিমতো বাগাওত বা বিদ্রোহ এবং ‘ফাসাদ ফিল আরদ' বা জমিনে শৃঙ্খলা বিনষ্ট করার অপরাধ। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২১)
43.
'তানকীদ ও মুহাসাবা' মানে কি?
উত্তরঃ পারস্পরিক সমালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২১)
44.
উপমহাদেশে প্রায় সব দেশেই বিভিন্ন নেতার নামে উপদল
সৃষ্টি হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন নেতার নাম বন্ধনীযুক্ত হয়ে একই নামে
একাধিক দল সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী
এ জাতীয় কোন ঘটনা এখনো ঘটেনি। তার কারণ কি?
উত্তরঃ কারণ এখানে রয়েছে 'তানকীদ ও মুহাসাবা' বা পারস্পরিক সমালোচনা ও সংশোধনের সুযোগ। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২২)
45.
‘শূরা-ই নেযাম' কি?
উত্তরঃ পরামর্শভিত্তিক পদ্ধতি। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২২)
46.
যারা ইসলামী আন্দোলনের ব্যাপারে একনিষ্ঠ, তারা যদি জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ
না করেন, তাহলে তারা কি করতে পারেন?
উত্তরঃ জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে ভালো কোনো সংগঠন কায়েম করতে পারেন। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২৩)
47.
এমন এক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে যোগ্যতা ও গুণাবলির
ভিত্তিতে শ্রেণীবিন্যাস করে যারা সংগঠনের যে পরিমাণ দায়িত্ব বহনের জন্য প্রস্তুত
তাদেরকে ততটুকু দায়িত্ব দেওয়া। এই ব্যবস্থাকে কি বলা হয়?
উত্তরঃ ক্যাডার সিস্টেম। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২৫)
48.
জামায়াতের আদর্শ, উদ্দেশ্য, কর্মনীতি
ও কর্মসূচির সাথে একমত হয়ে যারা জামায়াতে শামিল হন তাদেরকে কি বলা হয়?
উত্তরঃ ‘সহযোগী সদস্য' (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২৬)
49.
কর্মী হওয়ার পর জামায়াত তাদেরকে কুরআন-হাদীসের
আলোকে মন, মগজ ও
চরিত্র গড়ে তুলতে সাহায্য করে। তখন তারা দেখতে পায় যে, বর্তমান অনৈসলামী সমাজে বাস করে বাস্তব ক্ষেত্রে ইসলামী জীবন
যাপন করা অত্যন্ত কঠিন এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অসম্ভব। এ সত্ত্বেও কর্মীদের মধ্যে যারা নিষ্ঠার সাথে এ কঠিন
পথকে কবুল করতে চান, তাদেরকে
জামায়াত কি হিসাবে গন্য করে?
উত্তরঃ সদস্য বা ‘রুকন' হিসেবে। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২৬)
50.
আদর্শবাদী লোক তৈরির কারখানা হিসেবে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্রী সংস্থা ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ইসলামী বিপ্লবের যোগ্য
মন-মগজ ও চরিত্রবিশিষ্ট এক বাহিনী গঠন করার মহান উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে চলছে। তাই এসব সংগঠনও মানের ভিত্তিতে শ্রেণীবিন্যাস করে
লোক তৈরি করছে। এ পদ্ধতি কি নামে পরিচিত?
উত্তরঃ 'ক্যাডার সিস্টেম' নামে পরিচিত। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২৭)
51.
আদর্শহীন লোকদের কাছে এ পদ্ধতি পছন্দনীয় না হওয়াই
স্বাভাবিক। যারা বিভিন্ন কৌশলে নেতা হওয়ার
ধান্দায় আছে, তারা এ
পদ্ধতির নিন্দা করতেই পারে। এটা কোন পদ্ধতি?
উত্তরঃ ক্যাডার সিস্টেম। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২৭)
52.
মুসলিম সমাজের বর্তমান দুরবস্থার কারণে জামায়াতে
ইসলামী যে ক্যাডার সিস্টেমে কাজ করছে তা আসল ক্যাডার নয়। তাহলে আসল ক্যাটার কোনটি?
উত্তরঃ হক ও বাতিলের সংঘর্ষের শেষ পর্যায়ে যারা টিকে থাকবে তারাই আসল ক্যাডার। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২৮)
53.
‘হোল টাইম ওয়ার্কার' কারা?
উত্তরঃ যারা তাদের গোটা সময় আন্দোলনের কাজেই লাগায়, তারাই ‘হোল টাইম ওয়ার্কার'। (সাফল্য ও বিভ্রান্তিঃ পৃষ্ঠা-২৮)

0 Comments