যারা জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন, অথচ রুকন শপথ গ্রহণ করেননি। জামায়াতে ইসলামী তাদেরকে কি জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয়?
প্রশ্নটা যদি আমি ঘুরিয়ে বলি যে, যারা জামায়াতে ইসলামীর রুকন শপথ গ্রহণ করেছেন, জামায়াত কি তাদেরকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয়?
সোজাসুজি আর ঘুরিয়ে করা দু‘টি প্রশ্নের উত্তরই হলো: না। জামায়াতে ইসলামী জান্নাতের সার্টিফিকেট বিতরণ করে না।
রুকন হওয়া মানে মুমিনের সর্বনিম্ন স্তরে আপনি পা রাখলেন, এমনটা মনে করেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম রাহি.। রুকন হওয়া, রুকনের মান টিকেয়ে রাখা এবং সাংগঠনিক সমস্যা নিয়ে তিনি যেসব বই লিখেছেন, তার মধ্যে তিনটি বই উল্লেখযোগ্য: ১. রুকনিয়াতের আসল চেতনা। ২. রুকনিয়াতের দায়িত্ব ও মর্যাদা এবং ৩. ইসলামী আন্দোলন সাফল্য ও বিভ্রান্তি।
জামায়াতে ইসলামী আল জামায়াত (তথা একমাত্র ইসলামী সংগঠন) নয়। বিধায়, জামায়াতে ইসলামীর বাহিরে থেকেও জান্নাতে যাওয়া যেমন সম্ভব, জামায়াতে ইসলামীর রুকন না হয়েও জান্নাতে যাওয়া সম্ভব।
রুকন হওয়া মানে মুমিনের সর্বনিম্ন স্তরে পৌছানোর একটি প্রক্রিয়া মাত্র। জামায়াতে ইসলামীর রুকন হতে হলে জ্ঞানগত ও আমলগত কিছু বিষয়ে নিজের মানকে অগ্রসর করতে হয়, যা আসলে রুকন হওয়ার জন্য নয়-বরং একজন মুমিন হওয়ার জন্য প্রয়োজন।
জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলগন ওহী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। বিধায়, তাদের যথেষ্ট পরিমাণের ভূল রয়েছে এবং থাকাটাই স্বাভাবিক। আমরা জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলদের নিকট থেকে এমন সব বিষয়ের ত্রুটিমুক্ত হওয়া প্রত্যাশা করি, যে সব বিষয়ের ত্রুটি আমরা খুলাফায়ে রাশেদা, তাবেয়ী ও তাবে তাবেয়ীর যুগে মুমিনদের জীবন আচরণে দেখতে পাই। অথচ এই ধরণের ত্রুটি যখন জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল থেকে হয়, তখন আমরা অমার্জনীয় অপরাধ মনে করে সোসাল মিডিয়াকে গরম করে ফেলি।
জামায়াতে ইসলামীতে একটা বিষয় খুব স্বাভাবিক ভাবে লক্ষণীয় যে, অনেক কমযোগ্যতা সম্পন্ন অনেকেই বড় দায়িত্বশীল হয়ে গেছেন, অথচ শিক্ষা ও নেতৃত্বের যোগ্যতায় বেশী যোগ্যতা সম্পন্ন অনেকে বছরের পর বছর লাইনে দাড়িয়ে আছেন, তাদেরকে রুকন করা হচ্ছে না কিংবা দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে না। এই অবস্থার কতিপয় ব্যাখ্যা রয়েছে। যেমন:
রুকন করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দায়িত্বশীলের যোগ্যতা কম থাকার কারণে আপনাকে সঠিক বিবেচনায় নিতে পারতেছেন না, কিংবা ঐ দায়িত্বশীলের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পর্কটা কাংখিত মানের নয় বলে তিনি রুকন হওয়ার যোগ্য বিবেচনা করছেন না, কিংবা ঐ দায়িত্বশীলের খুলুসিয়াতের অভাব রয়েছে বলে তিনি আপনার যোগ্যতাকে তার প্রতিদ্বন্দি মনে করছেন।
এই সকল ক্ষেত্রেই আপনি ভিকটিম। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে: রুকন হওয়ার জন্য যতধরণের প্রস্তুতি দরকার, তা কি আপনি সম্পন্ন করেছেন? আল্লাহ তায়ালাকে হাজির নাজির জেনে আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন: আপনি কি ব্যক্তিগত জীবনে রুকনের মতো জীবন যাপন করছেন? যদি উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে আপনার চিন্তার কোন কারণ নাই। কারণ রুকনদের তালিকা দুইটি খাতায় লিপিবদ্ধ হচ্ছে। একটি জামায়াতে ইসলামীর খাতা, আরেকটি কিরামান কাতিবীনের খাতা। জামায়াতের খাতায় আপনি রুকন থাকলেও আপনার জান্নাতের গ্যারান্টি নাই। কিন্তু কিরামান কাতিবীনের খাতায় আপনি যদি রুকন থাকেন, তাহলে জান্নাতের গ্যারান্টি।
কিরামান কাতিবীনের খাতায় রুকন হিসাবে এমন মানুষের নাম পাওয়া যাবে, যারা তাদের সারাটা জীবন জামায়াতে ইসলামীর বিরোধীতা করেছে, এমন মানুষের নাম পাওয়া যাবে যারা রুকন হিসাবে সারাটা জীবন বৈষম্যের শিকার হয়েও দাঁতে কামড় দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সাথে থেকেছে।
মোদ্দাকথা, আপনাকে আমাকে রুকনের মান নিজেদের মধ্যে সংরক্ষণ করতে হবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের কাছে স্বচ্ছ হতে হবে। জামায়াতে ইসলামীকে কলুষমুক্ত করার সোল এজেন্সী দিয়ে আপনাকে পাঠানো হয়নি। আপনাকে কলুস মুক্ত রাখা দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। অতএব, এক্ষেত্রে নিজেকে স্বার্থপর (সিলফিশ) হতে হবে। নিজে কিভাবে জান্নাতে যাওয়া যায়, সেই চিন্তাটা সর্বাধিক বিবেচনায় রাখতে হবে। জামায়াতে ইসলামীকে কলুষ মুক্ত রাখার আগে নিজেকে প্রশ্ন রুকন:
১. আল্লাহর দ্বীনের পথে আহবান করার দায়িত্ব আজ আমি পালন করেছি কি?
২. আমার মালিকের নামে পড়ার নির্দেশ আজ আমি পালন করেছি কি?
৩. আমার ব্যক্তির উপর ন্যস্ত আজকের সকল ফরয সমূহ পালন করে হারাম বর্জন করে হলে পথে আজ আমি চলেছি কি?
৪. আল্লাহর পথে যে আর্থিক কুরবানী করার কথা, কাংখিত মান অনুযায়ী আমি তা আজ বা এই মাসে করতে সমর্থ হয়েছি কি?
৫. নিজের সংশোধনের জন্য অন্যের আয়নার সামনে আমাকে হাজির করতে আমি কি নির্ধারিত বৈঠকে উপস্থিত হতে পেরেছি।
৬. আমার আহাল আর প্রতিবেশীর হক আমি আদায় করতে পেরেছি কি?
৭. আমার সকল একটিভিটিজকে কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য নিবেদিত করতে আজ আমি কি আল্লাহকে হাজির নাযির জেনে আমার সমালোচনা করেছি কি?
আমার লিখা অন্যান্য আর্টিক্যাল সমূহ পড়তে এখানে ক্লিক করুন।
0 Comments